Monday, December 2, 2013

বিদেশিদের চাপে সংকট সমাধান কতটা সম্ভব?

জাতিসংঘ শুধু অনুরোধ জানাতে পারে, সিদ্ধান্ত বাংলাদেশেরই 

জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর আসন্ন সফরকে বিভিন্ন মহল শেষ কূটনৈতিক প্রয়াস হিসেবে দেখলেও সংকট নিরসনে এর সাফল্য নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ জাতিসংঘ বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় বসার জন্য শুধু অনুরোধ জানাতে পারে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর বাইরে কিছু করার সুযোগ এই বহুজাতিক সংস্থাটির নেই। সমস্যার সমাধান করতে হবে বাংলাদেশকেই। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব তারানকো গত এক বছরের মধ্যে তৃতীয় দফায় ঢাকায় আসছেন আগামী শুক্রবার। এ সফরে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতিও দেখবেন।
তারানকো যখন ঢাকায় পৌঁছবেন তখন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমাও শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর সফরের উদ্দেশ্য কী হতে পারে জানতে চাইলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনার পর বিরোধী দল যদি নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি হয়, তাহলে নতুন করে তফসিল ঘোষণার অনুরোধ আসতে পারে। তবে তাতে অবশ্যই প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন থাকতে হবে। এরপর নির্বাচন কমিশন তা বিবেচনা করে দেখতে পারে।
গত ১৩ মে তারানকোর দ্বিতীয় দফায় ঢাকা সফরের শেষ দিন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ-আলোচনার একপর্যায়ে এমন আবহ তৈরি হয়েছিল যে মনে হচ্ছিল তখনই সংলাপে বসতে যাচ্ছেন প্রধান দুই দলের প্রভাবশালী নেতারা। আর তাতে আশাবাদী হয়ে তারানকো বাতিল করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর পূর্বনির্ধারিত বৈঠক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুই দলের মহাসচিব-সাধারণ সম্পাদকরা সংলাপে বসেননি। এরপর ঢাকা ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। যত তাড়াতাড়ি সমাধান হয় ততই মঙ্গল।
ওই সফরের প্রায় সাত মাস পর তারানকোর ঢাকা সফরের প্রাক্কালে সংঘাতের মাত্রা অনেক তীব্র হয়েছে। সরকার চাইছে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে। অন্যদিকে বিরোধী দল তা প্রত্যাখ্যান করে টানা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। ককটেল, পেট্রলবোমা, আগুনে পুড়ে মরছে সাধারণ মানুষ। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অনড় অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের জীবন হারানোর শঙ্কার মধ্যে জাতিসংঘ বা বন্ধু রাষ্ট্রগুলো কী করতে পারে- এ প্রশ্নের উত্তরে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট বা অচলাবস্থায় তারা নানাভাবে চাপ দিতে পারে। এর বাইরে দৃশ্যত তেমন কিছুই করার সুযোগ নেই তাদের।
গত ২১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপকমিটিতে বাংলাদেশ নিয়ে শুনানিতে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনীরউজ্জামান বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে সেনাবাহিনীর কোনো ভূমিকা নেই। ২০০৭ সালের অভিজ্ঞতায় আমি বলতে পারি, রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছে নেই, তবে সহিংসতা অব্যাহত থাকলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোনো এক পর্যায়ে তাদের ভূমিকা নিতে দেখা যেতে পারে। আমাদের বোধ হয় এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা সমীচীন হবে না।’
পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হতে পারে তা নিয়েও রয়েছে নানা বিতর্ক। কারণ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারীদের রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করার এবং শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ১/১১ পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির অনেক মিল ও অমিল আছে। সরকারের মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। প্রতিবেশী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেড়েছে। কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপও দৃশ্যমান। বিদেশি কূটনীতিকদের বাসায় বসছে রাজনীতিকদের আড্ডা। নির্বাচনের প্রাক্কালে জাতিসংঘ মহাসচিবের দূত হিসেবে তারানকোর আসন্ন ঢাকা সফরকে কূটনীতিকদের শেষ চেষ্টা হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে জাতিসংঘ কী ভূমিকা পালন করতে পারে তা নিয়েও আছে যথেষ্ট সন্দেহ।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমেন গতকাল সোমবার টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতিসংঘ তেমন কিছু করতে পারবে না। শুধু অনুরোধ করবে। সবার অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যাতে হয় সে জন্য জাতিসংঘ অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশকে অনুরোধ করে আসছে।’
ড. আবদুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের আলাদা দরদ আছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন সব অনুষ্ঠানেই বাংলাদেশকে ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল’ বলেন। বাংলাদেশ যেহেতু সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে উচ্চমানের মডেল, তাই মহাসচিবের প্রত্যাশা এ দেশ যেন নির্বাচন ও গণতন্ত্রের ক্ষেত্রেও মডেল হয়।
তারানকোর সফর প্রসঙ্গে ড. মোমেন আরো বলেন, ‘জাতিসংঘের কোনো এজেন্ডা নেই। বিশেষ কোনো প্রস্তাবও নেই। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনের বিষয়টি নির্ভর করবে বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার ওপর। তাঁকেই জাতিসংঘ মহাসচিব অনুরোধ করেছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের মধ্যে থেকে যতটুকু ছাড় দেওয়া দরকার, তার সবটুকুই দিয়েছেন।’
ড. মোমেন বলেন, ‘তারানকো খালেদা জিয়াকে বলবেন যে আপনি নির্বাচনে আসুন। তিনি এর বেশি কিছু বলতে পারেন না।’ তিনি বলেন, ‘সমাধান স্থানীয় ও অভ্যন্তরীণভাবেই হতে হবে। বিদেশিরা সহায়তা করতে অথবা সহায়কের ভূমিকা পালন করতে পারে, কিন্তু সমাধান বাংলাদেশিদের হাতেই।’
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আলাপ-আলোচনা, টেলিভিশন টক শোতে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে বাংলাদেশ নিয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব উঠতে পারে। তবে এর সঙ্গে একমত নন ঢাকার সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা। তাঁদের মতে, বাংলাদেশ পরিস্থিতি এখনো এমন পর্যায়ে যায়নি। এ ছাড়া জাতিসংঘ নিজে থেকে এ ধরনের প্রস্তাব আনতে পারে না। প্রস্তাব আনে সদস্য কোনো দেশ বা কয়েকটি দেশ মিলে। বিশ্বে বাংলাদেশের বন্ধুর অভাব নেই। তাই এ ধরনের প্রস্তাব কেউ তোলার চেষ্টা করলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও বন্ধু রাষ্ট্রগুলো চুপ করে বসে থাকবে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।
সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা আরো জানান, এ ধরনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রস্তাব তোলার ঝুঁকি এখনই কেউ নিতে চাইবে না। কারণ এমন নজির সৃষ্টি হলে পরে দেখা যাবে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়েও প্রস্তাব উঠবে। ওই কূটনীতিকরা মনে করেন, প্রভাবশালী দেশগুলোই নিজেদের স্বার্থে এটা করতে দেবে না। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, অতীতে ও সাম্প্রতিক সময়ে যেসব দেশ নিয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব উঠেছে ওই সব সংকটকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি মনে করা হচ্ছিল। এ ছাড়া ওই দেশগুলোর পুরো ভৌগোলিক ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল না, গৃহযুদ্ধ চলছিল। সিরিয়ার ক্ষেত্রে এমনটি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। ফলে সে রকম কিছু হবে বলে রাজনীতিকরাও বিশ্বাস করেন না।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোমেনও বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যে আস্থা, তাতে আমার মনে হয় না কোনো রাষ্ট্র এ ধরনের কোনো প্রস্তাব আনবে। আর আনলেও তা কোনো দিন অনুমোদন হবে কি না তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। সুতরাং এ ধরনের ভাবনা অবান্তর।’
ড. মোমেন বলেন, ‘জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রনির্ভর প্রতিষ্ঠান। আমরা সদস্য রাষ্ট্রগুলো যা বলি সে অনুযায়ী জাতিসংঘ কাজ করে।’
গত রবিবার বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাইয়ের বিবৃতি ও উদ্বেগ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, ‘একটি দেশের এত লোক মারা গেলে জাতিসংঘের দায়িত্ব হলো সরকার ও বিরোধী দল সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া। এখন আমরা আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইসিজে) সদস্য। সেখানে সরকার বা সরকারের বাইরে যেমন বিরোধী দল, সবার বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ আছে।’
ড. মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে বিবৃতিতে রোম স্ট্যাটিউটে স্বাক্ষরের বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়ার অর্থ সতর্ক করা ছাড়া আর কিছু নয়।’
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, সংকট সমাধানে শুধু আলোচনা করতেই তারানকো উৎসাহিত করতে পারেন। নির্বাচনের কোনো ফর্মুলা দেওয়ার এখতিয়ার তাঁর নেই।
সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিক বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে কোনো ফর্মুলা যদি তিনি (তারানকো) দেনও সেটি মানতে বাংলাদেশ বাধ্য নয়। কারণ এটি মনে রাখা দরকার যে সদস্য দেশগুলোই জাতিসংঘকে পরিচালনা করে। জাতিসংঘ সদস্য দেশগুলোকে পরিচালনা করে না।’
ওই কূটনীতিক বলেন, গৃহযুদ্ধের সময় বিবদমান গোষ্ঠীগুলো জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতা চাইলে সেটি হয়তো সম্ভব। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও সব গোষ্ঠীর সমর্থন থাকতে হবে।
তারানকোর  আসন্ন সফর নিয়ে আশাবাদী হওয়ার কারণ আছে কি না জানতে চাইলে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের মানুষ তো আশাবাদী হতেই চাই। এখন যে ধরনের অবস্থা, অনিশ্চয়তা যাচ্ছে, তা কি আমরা কেউ চাই? এ অবস্থা থেকে ফিরতে আমাদের বন্ধুরা যদি কোনোভাবে সহযোগিতা করতে পারে তাহলে অবশ্যই আমরা স্বাগত জানাব। কিন্তু আমাকে আবার সেই কথাতেই ফিরে যেতে হবে। ওরা (বন্ধুরা) তো আমাদের পরামর্শ দিতে পারে। সিদ্ধান্ত তো আমাদেরই নিতে হবে।’
আরব দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক তদারকি করেন এমন এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, চলতি পরিস্থিতিতে আরব দেশগুলোর প্রকাশ্য কোনো বক্তব্য নেই। তবে মুসলিম ভাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে তারা এ দেশে শান্তি চায়।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সরকার অবৈধভাবে কিছু করছে এমনটা বলার সুযোগ বিদেশিদের নেই। কারণ রাষ্ট্র চলে সংবিধান অনুযায়ী। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোও ভালো করে জানে যে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের জন্য সংবিধান সংশোধনের সময় বিরোধী দল সংসদ বর্জন করেছে। তারা বাংলাদেশকে শুধু আজকের বাস্তবতায় নয়, বরং অতীতের ধারাবাহিকতায় দেখবে। তবে সবাইকে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে বলে তাঁরা মনে করেন।
তারানকোর আসন্ন সফর প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তাতে আমি খুব আশাবাদী নই। ভারতের পররাষ্ট্রসচিবও ঢাকায় আসছেন। আমার মনে হয় না, তারা জাতিসংঘের কোনো প্রস্তাব মেনে নেবে।’
অধ্যাপক শাহীদুজ্জামান আশঙ্কা করেন, ভারতের সঙ্গে বর্তমান সরকারের অলিখিত কোনো সমঝোতা আছে। ওই কারণে জাতিসংঘ হয়তো এখানে তেমন কিছুই করতে পারবে না।
ঢাকায় একটি প্রভাবশালী পশ্চিমা দূতাবাসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা মনে করেন, সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের জন্য সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে অনেক দেশ। অবশ্য এটিও ঠিক যে বাংলাদেশ পর্যবেক্ষণের জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানায় বলেই তারা আসতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীলতা থাকলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ, সাহায্য ও সহযোগিতায় এর প্রভাব পড়বেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, যেখানে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে, সেখানে নিজ দেশেই শান্তি নেই। রাস্তাঘাটে মানুষ মারা যাচ্ছে, আগুনে পুড়ছে। এই যে গত কয়েক দিনে প্রায় ত্রিশ জন মারা গেল, এটি কি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী দেশের জন্য পরস্পরবিরোধী অবস্থান নয়?
যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপকমিটিতে বাংলাদেশ নিয়ে শুনানিতে আশঙ্কা করা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জিএসপি সুবিধা, জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
গত জুন মাসে লন্ডনে ইনস্টিটিউট অব কমনওয়েলথ স্টাডিজ প্রকাশিত ‘পলিটিক্যাল ইসলাম অ্যান্ড ইলেকশন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দেশের স্বার্থে সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে (যখন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল সেই সময়ে) সেনাবাহিনীর ক্ষমতা নেওয়ার কোনো আগ্রহ নেই। তবে দেশে চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ বাংলাদেশ থেকে শান্তিরক্ষী নেওয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের পক্ষে যথেষ্ট অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।

0 comments:

Post a Comment