Monday, January 20, 2014

Money Making Ideas in Bangladesh

This is the Information age and in the Information age, it is possible to make money at the speed of light. In the 1990, after the birth of the Internet, the Information age started and in the Information age, the Internet has changed the capitalism of the world.

Many people ask me that which are the money making ideas in bangladesh? To those, I advise that, start making money on the Internet. Because of the Internet, everyone can start making money from his home only.

There are so many money making opportunities on the Internet that you can never imagine that how big the Internet is. Everyday, literally millions and billions of people from all around the world are creating the new wealth on the Internet.

Say for Example, This Article. When I am writing this Article, I am creating a new wealth on the Internet. The Archive of this Blog is a Wealth. And everyday literally millions of people like me are creating new wealth on the Internet. And this wealth is growing day by day.

Many people around this world became rich by selling their Internet Fortune in their early thirties. And right now they are enjoying their life at Hawaii or Las Vegas Casinos. All because of the Information age and the birth of the Internet.

India is such a large nation with 1 Billion Population that, in the next decade, most of the India will be connected with the Internet. And this will boost the web traffic on your Internet Business by several folds.

See More at Here

Read more »

টি আর রিপন মল্লিক ও তার " জেনন ইলেক্ট্রনিক্স বিডি"

মনে প্রবল ইচ্ছা কিছু একটা করব, এমন একটা কিছু যা সবাই চিনবে ও মনে রাখবে। তথাকথিত ধারায় পড়াশোনা শেষ করে সোনার হরিন চাকুরীর পিছনে ছোটা অথবা চাকুরী না পেয়ে হতাশ জীবন যাপন তাই আগে থেকেই অনেকটা সতর্ক আমি। সেই সূত্র ধরেই কিছু একটা করার আকাঙ্ক্ষা । জানি না তা কি তবে যাই করিনা কেন সফল হতেই হবে এ রকম প্রবল ইচ্ছা মনে পোষণ করি সবসময়। 

অনেক আগে থেকেই কিছু না কিছু করেই চলছি কিন্তু স্থায়ী হতে পারিনি কোনটাতেই। এরই মধ্যে ভর্তি হই ভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এ। একটু একটু করে বুঝতে শুরু করি ইলেকট্রনিক্স বিষয়টা। এই সেক্টরেই কিছু একটা করব এই ভূত মাথায় চাপল কিন্তু সমস্যা ছিল একটাই, টাকা। ব্যবসা করার মত প্রাথমিক মূলধন আমার ছিল না। আর বাসা থেকেও এই সময়ে ব্যবসা করার জন্য টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা নাই। তারপরেও কয়েকবার চেয়েছিলাম কিন্তু তাদের একটাই কথা আগে পড়াশোনা শেষ কর তারপর দেখা যাবে কি করা যায়। তাদের কথায় মনকে স্থির করার চেষ্টা করেছি কয়েকবার, কিন্তু মনতো আর স্থির হয় না। এর মধ্যে শুরু হল নতুন সমস্যা, ভার্সিটিতে যা হয় আরকি! গার্লফ্রেন্ড এর প্রেশার, আমাকে নাকি কিছু একটা করতে হবে। আমার বাবা মার মতে আমার তো বিয়ের বয়স হয় নাই কিন্তু তার বাবা মার মতে তার তো বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে। মহাবিপদ, এখন তো দেখি কিছু একটা করা ফরয এর মত হয়ে গেছে। কি করব মাথা কাজ করে না, অন্য দিকে সময় কেটে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে। যাই হউক কিছু না পেয়ে সেমিস্টারের কিছু টাকা মারিং কাটিং করে দোস্তদের কথায় শুরু করলাম শেয়ার বিজনেস, কপাল আমার ৪ মাস পর থেকেই ধস নেমে গেল, এখনও আমার সেই শেয়ার বিক্রয় করা হয় নাই। ভাবছিলাম শেয়ার বিজনেস করে কিছু টাকা জমিয়ে ব্যবসা শুরু করব তা আর হলনা। তারপর আবার শুরু করলাম টিউশনি, চলছে কিন্তু কোন উন্নতি নাই, আসলে টিউশনি করে শুধু পকেট খরচ চালানো সম্ভব। কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না এই দিকে আবার গার্লফ্রেন্ড এর চাপ। লাইফটা পুরা সিনেমা হইয়া গেল। এর মধ্যে আবার জড়িয়ে পরলাম এম এল এম বিজনেস এর সাথে , মাস কয়েক ভালই চললাম, এইবার বুঝি কিছু একটা হইল। কিন্তু কিছুই আর হইল না। এম এল এম ভাগল আর আমি পড়ে রইলাম আগের যায়গায়। ফিরে এলাম পুরোনো পেশায় টিউশনি আর এর সাথে নতুন করে শুরু করি টিউশন মিডিয়ার বিজনেস, এই বিজনেস এ অবশ্য তেমন ইনভেষ্ট লাগে না কিন্তু ঠিকমত করতে পারলে মাসে কিছু টাকা আয় করা সম্ভব। কিন্তু এটাও বেশি দূর টানতে পারলাম না। আসলে একা কোন বিজনেস করা সম্ভব না। আর যা করতেছি এইগুলা কি কোন বিজনেস এর তালিকায় পরে ? একদিকে গার্লফ্রেন্ড এর চাপ অন্য দিকে পড়াশোনা। সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিল।

অনেকটা হতাশ হওয়ার মত করে কাটতে থাকে আমার দিনগুলি। ভার্সিটিতে যাই, ক্লাস করি, বাসায় ফিরে আসি কোন কিছুই ঠিক মত হচ্ছিল না। মনোযোগ দিতে পারছিলাম না কোন কাজেই। রাতে আমার ঘুম কম হত সারা রাত বসে থাকতাম কম্পিউটার এর সামনে উদ্দেশ্যেহীন ভাবে। এরই মধ্যে ঠিক কি ভাবে যেন আমি “চাকরি খুজব না চাকরি দিব” গ্রুপে এড হই, এখনও মনে করতে পারি না।

একদিন একটা পোষ্ট পরে এই গ্রুপে ঢুকলাম, আমার ভালো লাগলো, সবগুলা পোষ্ট পড়লাম,পড়ে খুব সাহস পেলাম, অনেক উৎসাহ পেলাম। এর মধ্যে কয়েক দিন কেটে গেল নিয়মিত হতে লাগলাম এই গ্রুপে। অনেকদিন ফলো করার পর একদিন ভাবলাম আমি একটা পোষ্ট দিয়ে দেখি কোন সাহায্য পাই কিনা। পোষ্ট টা ছিল এইরকম-

‘আমি বিজনেস করতে চাই কম ইনভেষ্ট এর মধ্যে কেউ কি আমাকে পার্টনার হিসেবে নিতে পারেন?

অনেক প্রস্তাব পেলাম কিন্তু সেই গুলো ছিল আমার ইনভেস্ট করার ক্ষমতার চাইতে বড়। অনেকটা নিরাশ হলাম। এরই মধ্যে ঠিক আমার পোষ্ট এর নিচে আরেকজন এর পোষ্ট পেলাম। সেও ইনভেস্ট এর জন্য বিজনেস করতে পারছে না। নাম নিয়াজ মোর্শেদ, যোগাযোগ করলাম তার সাথে। আইডিয়া শেয়ার করলাম, ভালো লাগল। আমরা প্রথম মিটিং কল করলাম। ভ্যানূ ঠিক হল কমলাপুর রেলষ্টেশনের ৩ নং প্লাটফরম এর শেষ মাথায়।

অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করলাম আমরা। কথা বলে ভাল লাগল। অধিকাংশ বিষয়ে মতের ক্ষেত্রে দুই জনের মতামতই মিলে গেল। ব্যবসা করা যায় এক সাথে। নিয়াজ ভাই তেমন ইনভেষ্ট করতে পারবেন না আর আমার কাছেও তেমন টাকা-পয়সা নাই। এর মধ্যে আমি ওনাকে প্রস্তাব দিলাম আমার টিউশন মিডিয়ার বিজনেস থেকে কিছু টাকা আয় করে সেই টাকা দিয়ে আমরা ছোট করে আমাদের ইলেকট্রনিক্স সেক্টরে বিজনেসটা শুরু করতে পারি। প্রথমে আমরা শুরু করব মিনি আইপিএস দিয়ে কারন এটাতে ইনভেষ্ট কম লাগবে, তারপর আস্তে আস্তে এগুবো। উনি আমার প্রস্তাবে রাজি হলেন।

আমি ওনাকে শুধু বললাম ভাই আজকে যেই স্পিড নিয়ে যাচ্ছেন এই স্পিডটা শুধু ধরে রাখেন, “ইনশাআল্লাহ” আমরা কিছু করতে পারব বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। ওনি বলল ঠিক আছে আমি আপাতত প্রোডাকশন দেখব আর আপনি বাকি কাজ দেখেন। আমি ওনাকে বললাম তাহলে প্রথমে একটা সেম্পল রেডি করা যাক আর এর মধ্যে আমরা টাকার ব্যবস্থা করি, ৭ দিন পর আমাদের সেম্পল রেডি হয়ে গেল। তারপর হিসাব করে দেখলাম অন্তত ১০,০০০ টাকা হলে আপাতত অল্প করে শুরু করা যাবে। কিন্তু টাকা পাব কোথায় ? অবস্থাটা এমনই ছিল এই মুহূর্তে কারো পক্ষেই এই টাকা জোগাড় করা সম্ভব না। আমাদের একটা প্লাস পয়েন্ট ছিল যে আমাদের ফ্যাক্টরির জন্য যে যায়গা দরকার সেইটা আপাতত নিয়াজের বাড়ী যাত্রাবাড়ীতে করা সম্ভব। আমার কাছে সব কিছু পজেটিভ মনে হচ্ছিল, আর আমার মাথায় যে প্লান আছে সে আনুসারে এগোলে আমরা অবশ্যই কিছু করতে পারব। কিন্তু টাকা তো হাতে নাই। গার্লফ্রেন্ড এর কাছ থেকে ১০,০০০ টাকা ধার নিলাম। এখন কাঁচামাল সংগ্রহ করার পালা। এই সেক্টরে আমার চাইতে নিয়াজ ভাই এর বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেক বেশি ছিল। উনি কোথায় কি পাওয়া যায়, সম্পূর্ণ প্রোডাক্ট করতে কি কি লাগে সব ব্যাপারে হেল্প করেছেন। কাঁচামাল সংগ্রহ করলাম। হিসেব করে দেখলাম মার্কেট এ মিনি আইপিএস যে দামে আছে আমরা তার চেয়ে অনেক কম রেটে ভাল জিনিস দিতে পারব। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম প্রথমে প্রফিটের কথা ভাবব না শুধু পরিচিতি দরকার। আমি নিয়াজ ভাইকে বললাম এখন যেহেতু আমরা মাত্র ২ জন লোক আর স্টাফ রাখার মত টাকাও আমাদের নাই তাই আপনি প্রোডাকশন দেখেন আর আমি মার্কেট দেখি।

শুরু করলাম আমি আমার মার্কেটিং। অনলাইনে কিছু এড দিলাম সেই সাথে আমি “চাকরি খুজব না চাকরি দিব” গ্রুপে একটা পোষ্ট দিলাম “ কিছুদিনের মধ্যেই মার্কেট এ আসছে কম রেটে ভাল মানের মিনি আইপিএস” সেখানে কিছু রেসপন্স পেলাম যা কখনও আশা করিনি। প্রায় ১৫-২০ টি জেলা শহর থেকে আইপিএস এর সেম্পল সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ পেলাম। এতে করে আমরা আরো উৎসাহী হয়ে উঠি, ৪-৫ দিনের মধ্যে কিছু সেম্পল রেডি করে পাঠিয়ে দিলাম কয়েকটি জেলায়। কিন্তু অভিজ্ঞতা না থাকার কারনে যা হবার তাই হল, আমাদের বেশ কিছু সেম্পল ঠিক মত প্যাকিং না করার কারনে কুরিয়ার করার সময় নষ্ট হয়ে যায়। আর যারা সেম্পল পেল তারা বেশ কিছু দিন আমাদের সাথে কোন রকম যোগাযোগ করেন নাই। এর মধ্যে ঢাকায় পরিচিত কয়েকজন বন্ধুর সাথে এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করি এবং তাদের দিয়ে কিছু আইপিএস পুশ সেল করাই আবার কাউকে ফ্রি ব্যবহার করতে দিলাম চ্যালেঞ্জ অফার হিসাবে। ১৫ থেকে ২০ দিন পর চট্রগ্রাম থেকে ফোন আসে ১০০ পিছ মিনি আইপিএস লাগবে। আমাদের আইপিএস এবং এর সার্ভিস তাদের পছন্দ হয়েছে। তাই তাদের আরো ১০০ পিছ সেম্পল লাগবে। এর ঠিক একদিন পরে চট্রগ্রামের আরেক জায়গা থেকে ফোন আসে আরও ৩০ পিস আইপিএস এর জন্য। পরলাম মহা সমস্যায় আমরা মানুষ মাত্র দুই জন এর মধ্যে নিয়াজ ভাই আবার জব করেন। সময় খুব অল্প তারপরে আবার টাকার সমস্যা কি করব বুঝতে পারছিলাম না। আমি নিয়াজ ভাইয়ের সাথে আলাপ করলাম কি করা যায়, প্রাথমিক রেসপন্স তো ভালই কিন্তু এই অর্ডার সম্পূর্ণ করতে টাকা তো লাগবে অনেক। আমি এবার আমার রুমমেটদের কাছ থেকে অনেক বুঝিয়ে ২০,০০০ টাকা ধার নিলাম। আমার বড় ভাই সিঙ্গাপুর থাকে,অনেক বলে তার কাছ থেকেও ২৫,০০০ টাকা নিলাম।এখন ২ জনে মিলে প্রডাকশন শুরু করলাম, সাথে নিলাম আমার ছোট ভাই ও তার বন্ধু এবং নিয়াজ ভাই এর ছোট ভাইকে। নিয়াজ ভাই এর ছোট ভাই আমাদের প্রাথমিক অবস্থায় অনেক সহযোগিতা করেছে উনি আমাদের জন্য অনেক রাত জেগে পরিশ্রম করেছেন। সময়মত চাহিদা অনুযায়ী আমরা উৎপাদন করতে পারলাম না ১৩০ পিছ থেকে অর্ডার নেমে আসল ৮০ পিছ এ। মোটামুটি একটা ধাক্কা খেলাম। কমিটম্যান্ট নষ্ট হওয়ার মত অবস্থা। অনেক কষ্ট করে তখনের ধাক্কা সামাল দিলাম। এর মধ্যে আরও কয়েকটি জেলার সাথে আমরা কাজ করা শুরু করে দেই। প্রাথমিক অবস্থায় আমাদের মার্কেট চাহিদা পূরুন এবং একটি সম্পূর্ণ প্রোডাক্টকে আকর্ষণীয় করে বিক্রয়যোগ্য করে তুলতে যে টাকা প্রয়োজন ছিল তা জোগাড় করতে পারিনি। প্রথমে অনেককেই বলেছি সহযোগিতা করার জন্য এমনকি পার্টনার হওয়ার জন্যেও, কিন্তু কেউ পাত্তা দেয় নাই বরং উল্টো আরো তুছ্য করে দেখেছে বিষয়টাকে। আমাদের জ্যাদ এবং কিছু একটা করার প্রত্যয় থেকে যখন এটাকে খুব কম সময় এর মধ্যেই আমরা মোটামুটি একটা পজিশনে এনে দাড় করাই তখন অনেকেই অফার করে পার্টনারশীপ এর জন্য। সব কিছু মিলিয়ে চিন্তা ভাবনা করে দেখি তাদের আমাদের সাথে নেয়ার মত না। কিন্তু ওই মুহূর্তে আবার আমাদের টাকারও দরকার ছিল। এর মধ্যে কিছু অর্ডার অর্থ ও জনবল শঙ্কটের কারনে বাদ দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে একটা বাজে অবস্থার মধ্যে পরে যাই। নিয়াজ ভাই এর জব নিয়েও তখন টানাটানি চলছিল। ওই মুহূর্তে আমার এক দাদা মোঃ সেলিম রেজা, উনার সাথে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক উনি আমেরিকা ফেরত, খুবিই ভাল মানুষ। সব কিছু শুনে আমাদের সাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। আমি নিয়াজ ভাইয়ের সাথে আলোচনা করি। আমারা দ্বিধাদ্বন্ধে পরে যাই। অর্থনৈতিক দিক থেকে দাদা অনেক স্বছল, ঢাকায় দুইটা বাড়ী। উনার তো টাকার দরকার নাই, উনি কেন আমাদের সাথে এই ব্যবসা করবেন। এধরনের অনেক প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। অপর দিকে কাষ্টমার এর সাথে সব কমিটম্যান্ট ও রক্ষা করতে পারছিলাম না। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম দাদাকে আমাদের সাথে নেব। উনি উনার পরিচিত আরো দুই জন সহ আমরা মোট পাঁচ জন একসাথে হলাম। এর মধ্যে একজন থাকেন সুইজারল্যান্ড, উনি আমাদের অর্থনৈতিক সাপোর্ট দিবেন এবং আরেকজন ব্যবসা করেন চায়না এর সাথে ইনি আমাদের চায়না মাল আমদানি করতে সহযোগিতা করবেন।

আমরা আমাদের যাত্রাবাড়ীর ফ্যাক্টরি পরিবর্তন করে সবুজবাগে নিয়ে আসলাম। আর হেড অফিস করলাম দাদার উত্তরার বাড়ীতে। কিছু দিনের মধ্যেই সেখানে ডেকোরেশনের কাজ শুরু হবে। রংপুরে ৫/৯/২০১৩ তারিখ থেকে আমাদের প্রথম শো-রুম চালু হয়েছে। চট্রগ্রাম, বরিশাল এবং ধামরাইতে আমাদের শো-রুমের কাজ চলছে।

বর্তমানে আমরা পাঁচ ওয়াট থেকে ৫০০০ ওয়াট পর্যন্ত আইপিএস, ৬৫০ ভিএ থেকে ১০,০০০ ভিএ পর্যন্ত স্ট্যাবিলাইজার এবং ৩ ওয়াট থেকে ২৫০০ ওয়াট পর্যন্ত সোলার হোম সিস্টেম করে থাকি। চট্রগ্রাম, চাঁদপুর, রংপুর ও ধামরাইতে আমাদের প্রোডাক্ট এর চাহিদা ভালো। আমরা এখনও চাহিদার তুলনায় আমাদের প্রোডাকশন ক্যাপাসিটির দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারি নাই। কয়েক জনকে প্রশিক্ষন দিচ্ছি আশা করছি অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তাদেরকে নিয়ে আমাদের প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি বাড়াতে পারব।

শূন্য থেকে পথ চলা শুরু করে বর্তমানে পাঁচ মাস পর এখন কোম্পানীতে মোট ইনভেস্ট এর পরিমান ৬,০০০০০/- টাকা এবং ১ বছরের মাথায় তা ২০,০০০০/- টাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি । আমাদের এক্সপোর্ট ইমপোর্ট লাইসেন্স এর কাজ চলছে, আশা করছি অল্প কিছুদিনের মধ্যে আমরা নিজেরাই কাচা মাল ইমপোর্ট করতে পারব। অল্প কিছু দিনের মধ্যে অনেক ইনোভ্যাটিভ প্রোডাক্ট আমরা মার্কেটে নিয়ে আসতে পারবো বলে আশা করছি, বর্তমানে হোম অটোমেশন সিস্টেম, টাচ সুইচ ও স্ট্যাবিলাইজার আপগ্রেডেশন নিয়ে কাজ করছি।

সত্যি কথা বলতে স্বপ্ন দেখছিলাম কিন্তু কোন দিন ভাবি নাই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে পারব। আসলে ইচ্ছা আর একাগ্রতা থাকলে সব কিছুই সম্ভব। ছোট বেলায় পড়েছি “পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি” তাই পরিশ্রম করে যাচ্ছি মনের মধ্যে আছে প্রবল ইচ্ছা তাই সফল হবই। আমাদের “জেনন ইলেকট্রনিক্স বিডি” কোন একদিন একনামে সারা বাংলাদেশের মানুষ চিনবে ইনশাআল্লাহ। শুধু আইপিএস, ইউপিএস ও স্ট্যাবিলাইজার নয় খুব অল্প সময়ের মধ্যে আরও অনেক প্রোডাক্ট আমরা নিয়ে আসতে পারব বলে আশাবাদী।

অবশেষে “জেনন ইলেকট্রনিক্স বিডি” এর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাবো এই গ্রুপের এডমিন ও যারা এই গ্রুপটাকে তৈরি করেছেন তাদের সকলকে। জানিনা কতটা সফল হতে পেরেছি, যতটুকু পেরেছি তাতে এই গ্রুপের পরোক্ষ অবদান রয়েছে।

হয়ত কোন একদিন আমি কিছু করতাম, কিন্তু এই গ্রুপ- এই কোন একদিনকে বর্তমানে নিয়ে এসেছে এবং সেই সাথে এটাও চিরন্তন সত্য যে- “পথে নামলেই পথকে চেনা যায়” ।

******* সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। *******

Read more »

Sunday, December 29, 2013

ছিঃ, এমন বর্বরতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:

রাজশাহী নগরীর ভাটাপাড়া এলাকায় খোলা মাঠে বেঁধে রাখা হয় নির্যাতিত দম্পতিকে। ছবি : কালের কণ্ঠ


চরম বর্বর এক ঘটনা ঘটে গেল শিক্ষানগরী রাজশাহীতে। লজ্জা আর অবমাননাকর সেই ঘটনা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল শত শত মানুষ। ‘অসম বিয়ের অপরাধে’ স্বামী-স্ত্রীকে বেধড়ক পেটানোর পর জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো হলো এলাকায়। পরে খোলা ময়দানে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হলো সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহী নগরীর ভাটাপাড়া এলাকায় গতকাল রবিবার। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নির্দেশে এই ঘৃণ্য বর্বর ঘটনা ঘটায় এলাকার কিছু মানুষ। নিগ্রহের শিকার দুজন হলেন রুবেল হোসেন (২৫) ও নিলুফা বেগম (৪০)। তাঁদের মধ্যে রুবেল হোটেল কর্মচারী আর নিলুফা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। থাকেন ভাটাপাড়া এলাকার একটি বস্তিতে।
নির্যাতিতদের বক্তব্যে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে নিলুফার সঙ্গে তাঁর স্বামী ফজলুর রহমানের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।
এরপর চার দিন আগে প্রতিবেশী যুবক রুবেল ও নিলুফা বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। গতকাল সকাল ৯টার দিকে বাড়ি ফিরে তাঁরা বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ করলে রুবেলের বাবা মুনসুর আলীসহ তাঁর পরিবারের লোকজন ও এলাকার কিছু অতি উৎসাহী মানুষ গর্জে ওঠে। তারা কাউন্সিলর নূরুজ্জামান টুকুর নির্দেশে রুবেল ও নিলুফাকে ধরে এনে পেটাতে থাকে। এরপর তাঁদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে রেললাইনের ধারে মাঠে নিয়ে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এই বর্বরতা দেখতে ভিড় করে এলাকার শত শত মানুষ।
এদিকে খবর পেয়ে দুপুর ১টার দিকে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার খবরে পুলিশ গিয়ে রুবেল ও নিলুফাকে উদ্ধার করে। এ সময় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূরুজ্জামান টুকুও সেখানে হাজির হন। 
নির্যাতিত নিলুফা কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ২০-২৫ জন লোক মিলে তাঁদের দুজনকে প্রথমে লাঠি ও হাত দিয়ে পেটায়। প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে পেটানোর পর গলায় জুতা-স্যান্ডেলের মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানো হয়। এভাবে ১০ মিনিট ঘুরিয়ে আনার পর মাঠের মধ্যে দুটি পাশাপাশি বাঁশের খুঁটির সঙ্গে তাঁদের বেঁধে রাখা হয়।
নির্যাতনকারী স্থানীয় আজিজুল ইসলামসহ আরো অনেকের দাবি, রুবেল কদিন আগেও ওই নারীকে মা বলে ডাকত। এখন তারা বিয়ে করেছে বলে দাবি করছে। এটি মেনে নিতে না পারায় স্থানীয় কাউন্সিলরের নির্দেশে তাদের দুজনকে পেটানোর পর বেঁধে রাখা হয়। কাউন্সিলর নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের মুক্ত করা যাবে না বলেও দাবি করে তারা।
এদিকে সাংবাদিকদের সামনেই রুবেলের পরিবারের লোকজন উত্তেজিত হয়ে রুবেলকে মারধর করতে দেখা গেছে। এ সময় রুবেল চিৎকার করে বলছিলেন, ‘তোরা তো আমার সব শেষ করি দিলি। এবার আমি নিজেকে শেষ করে দিব। আমি আর এ মুখ দেখাতে পারব না।’
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর নূরুজ্জামান টুকু অবশ্য দাবি করেন, তিনি এ ঘটনা জানতেনই না। পরিবারের নির্দেশেই রুবেল ও নিলুফাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে তিনি বরং তাঁদের ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন।
নগরীর রাজপাড়া থানার ওসি এ বি এম রেজাউল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এক যুবক ও নারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতনের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেছে। তাঁরা অভিযোগ দিলে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/last-page/2013/12/30/36247#sthash.GBIZIQB9.dpuf


Read more »

Saturday, December 28, 2013

JSC/JDC/Equivalent এর result


Read more »

Thursday, December 12, 2013

সরাসরি সময় টিভি


Read more »

Monday, December 2, 2013

"আগামী সপ্তাহ অবরোধমুক্ত "

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিরোধী জোটে চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলনে কিছুটা পরিবর্তন আসছে। চলতি সপ্তাহের চলমান অবরোধ কর্মসূচি বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহের মত আগামী সপ্তাহের কর্মসূচি ততটা কঠোর থাকছে না। আন্দোলন কিছুটা শিথিল করার চিন্তা করছে বিরোধী জোটের নীতিনির্ধারকরা।
জোট সূত্রে জানা গেছে, দুই জোটের কাছে সমঝোতার বার্তা নিয়ে আগামী ৬ ডিসেম্বর ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের রাজনীতি বিষয়ক বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো। তিনি চলমান সংকট নিয়ে প্রধান দুই দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। দুই দলের দুই শীর্ষ নেত্রীর কাছে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ বার্তা পৌছে দিবেন তিনি। মূলত তার সম্মানে আন্দোলনে বিরতি টানার চিন্তা করছে বিরোধী জোট।
বিশেষ করে ১৮ দলের প্রধান শরিক বিএনপির নীতিনির্ধারকরা তারানকোর এই সফরকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তারা মনে করছেন, সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতার জন্য এটাই সবশেষ সুযোগ। এছাড়া সারা দেশের স্কুলগুলোর বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। তবে তারানকোর সফরের পরও যদি চলমান রাজনৈতিক সংকটের কোন সমাধান না হয় তাহলে বিরোধী দল সমঝোতার জন্য আর অপেক্ষায় থাকবে না। সেক্ষেত্রে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিতে পারে ১৮ দলীয় জোট।
জানা গেছে, অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে সংলাপ নিয়ে দলের সর্বোচ্চ আগ্রহের কথাও তুলে ধরবেন খালেদা জিয়া। এজন্য তার বাংলাদেশ সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। ইতোমধ্যে তারানকোর সঙ্গে বৈঠকে বিরোধী দলীয় নেত্রী কি বক্তব্য তুলে ধরেবেন তাও প্রস্তুত করা হচ্ছে। তার বক্তব্যে বাংলাদেশের চলমান সংকট সমাধানে জাতিসংঘসহ বিদেশী বন্ধু রাষ্ট্রের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাবেন তিনি।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, জাতিসংঘের বিশেষ দূতের বাংলাদেশ সফরকে আমরা বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। আমরা সমঝোতার ব্যাপারে আন্তরিক। তাই আমরা আশা করবো তার এই সফরকালে চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হবে। আগামী সপ্তাহে আন্দোলন কর্মসূচী শিথিল হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরাতো আন্দোলন করে জনগনকে দুর্ভোগে ফেলতে চাই না। কিন্তু সরকারই দেশকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমাদেরকে আন্দোলনে নামতে বাধ্য করেছে।

Read more »

জাতিসংঘের দিকে তাকিয়ে বিএনপি

নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সমঝোতার জন্য এখন জাতিসংঘের দিকে তাকিয়ে আছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে হলেও সরকারের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চায় বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। কতটা ছাড় দিলে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে এবং কী পদ্ধতিতে জাতিসংঘকে কাজে লাগিয়ে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা যায়, সেই কৌশল নিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো আগামী ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এ সফরের সময় তিনি সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করবেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বৈঠক সামনে রেখে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা প্রয়োজনীয় হোমওয়ার্ক সেরে নিচ্ছেন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট নেতারা দফায় দফায় বৈঠকও করছেন। আর সব বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, কতটা ছাড় দিলে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে এবং কী পদ্ধতিতে জাতিসংঘসহ সব বিদেশি ডেলিগেশনকে কাজে লাগিয়ে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা যায়, এর কৌশল নিয়ে প্রয়োজনীয় হোমওয়ার্ক করছেন বিএনপি নেতারা। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকলেও গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের বাসভবনে গিয়ে বেশ কয়েকজন নেতা নিয়মিত তাঁর সঙ্গে দেখা করছেন। দলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন তাঁরা। গত রবিবার রাতেও দেখা করেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবরসহ কয়েকজন।
সূত্রগুলো জানায়, দলের বেশির ভাগ সিনিয়র নেতা পলাতক থাকায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়াম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ কয়েকজনকে এ বিষয়ে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া। প্রকাশ্যে কিছু না বললেও বিএনপির ওই নেতারা প্রায়ই বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর সঙ্গে আলোচনার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব তৈরি করছেন তাঁরা। সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে হলেও সংকট সমাধানের লক্ষ্যে তৈরি করা ওই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করেই আলোচনা করবেন বিএনপি নেতারা। তাঁরা প্রস্তাবগুলো তারানকোসহ অন্যদের কাছে তুলে ধরবেন। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, নির্বাচন সামনে রেখে কূটনীতিকরা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এবার প্রস্তাবগুলো সরকারকে জানাবেন।
জানা যায়, এ প্রস্তাব তৈরির বিষয়ে ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে দলের কয়েকজন নেতা গুলশানে একটি বাসায় গতকাল সোমবার বৈঠক করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বিষয়টি স্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংকট নিরসনের জন্য আমরা সব ধরনের আলোচনাই চালিয়ে যাচ্ছি। সরকারের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। জাতিসংঘের প্রতিনিধিদল আসার আগেও ফলপ্রসূ আলোচনা হতে পারে। যদি তা না হয় তাহলে জাতিসংঘের মাধ্যমে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরব।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সকলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। এ জন্য কী করতে হবে সে বিষয়গুলো আলোচনায় থাকবে।’
এ প্রসঙ্গে বিএনপির আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সরকারের একদলীয় নির্বাচনের উদ্যোগকে জাতিসংঘ কখনো স্বীকৃতি দেবে না। এই পরিস্থিতির উত্তরণ ও সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মধ্যস্থতা করবে। এ জন্য জাতিসংঘ চেষ্টাও করছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর সফরের দিকে আমরা তাকিয়ে আছি। তাঁর চলতি সফরে সমাধান হোক তা আমরা চাই। আর যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে জাতিসংঘ সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করবে বলেও আমাদের বিশ্বাস।’
ওই নেতার মতে, তারানকোর আসন্ন সফরের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। জাতিসংঘের অবস্থান জানার ওপর বিএনপির আগামী দিনের আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ভর করছে। সমঝোতা হলে নির্বাচনের দিনক্ষণ পেছাতে পারে বলেও জানান তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সংঘাতের বিপক্ষে। কিন্তু সরকার আমাদের বাধ্য করেছে রাস্তায় নামতে। ক্রমান্বয়ে দেশ সংঘাতের দিকে যাচ্ছে। আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলছি- আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে সকলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। সে বিষয়টিই আমরা জাতিসংঘের প্রতিনিধির কাছে তুলে ধরব।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের রাজনৈতিক চলমান সংকট আমাদেরই সমাধান করতে হবে। তার পরও এখন বিশ্বায়নের যুগ, সকলেরই বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। এ জন্য জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলসহ কয়েকটি বিদেশি উচ্চপর্যায়ের ডেলিগেশন বাংলাদেশে আসছে। আশা করি, চলমান সংকট নিরসনে তারা তাদের মতবাদ ব্যক্ত করবে। আমরাও আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করব।’
বিএনপির অন্য এক নেতা জানান, বর্তমান সরকার যেভাবে একতরফা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে, তাতে দেশে সংঘাত ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে দেশে আন্দোলন হতো না। সরকার ইচ্ছা করে দেশবাসীকে আন্দোলনে নামাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে টানা অবরোধ পালন করছে দেশের সাধারণ মানুষ। বিদেশিরাও চায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। তাই বিদেশি কেউ আসলে, তারা আমাদের সঙ্গে বৈঠক করলে স্বাভাবিকভাবেই দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।’
সূত্র জানায়, জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো বাংলাদেশ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের উপায় নিয়ে তিনি কথা বলবেন। এ ছাড়া ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং আসছেন ৪ ডিসেম্বর। যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ ও ফরেন অফিস-বষয়ক সিনিয়র প্রতিমন্ত্রী সাঈদা ওয়ার্সির ঢাকায় আসার কথা ১২ ডিসেম্বর। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকজন পার্লামেন্টারিয়ানেরও ঢাকা সফর করার কথা রয়েছে। ইউরোপের পার্লামেন্ট সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

Read more »