Monday, December 2, 2013

ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ মায়ের

শফিক আদনান, কিশোরগঞ্জ :  

তিন দিন কিছুই খেতে দেওয়া হয়নি গৃহবধূ হেলেনাকে। সঙ্গে চলছে স্বামী-শাশুড়ির নির্মম নির্যাতন। তাদের দাবি, বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দিতে হবে। কিন্তু এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই হেলেনার বাবা নূরুল ইসলামের। নির্যাতন সহ্য করে এ কথাটিই স্বামী-শাশুড়িকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু কিছুতেই মন গলেনি পাষণ্ডদের। অবশেষে নির্যাতন সইতে না পেরে আড়াই বছরের শিশুপুত্র রামিমকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে জীবন দিলেন হেলেনা আক্তার (২৭)। 
নির্যাতনে বীতশ্রদ্ধ মা প্রিয় সন্তানকেও স্বামীর কাছে রেখে যাওয়ার সাহস পাননি। 
রবিবার রাত ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শ্বাকড়িয়াল ইউনিয়নের কড়িয়াইল গ্রাম থেকে তিন কিলোমিটার দূরে মহিষবেড় গ্রামের সামনের রেললাইন থেকে মা ও সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী, দুপুরের দিকে সন্তানকে বুকে নিয়ে মা ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় শোকে পাথর হেলেনার স্বজনসহ পুরো এলাকাবাসী। তারা কিছুতেই বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে হেলেনার স্বামী-শাশুড়িসহ অন্যরা পলাতক রয়েছে।
হেলেনার ভাই দীন ইসলাম জানান, তাদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী চিকনিরচর পূর্বপাড়া গ্রামে। আট বছর আগে কড়িয়াল গ্রামের হবি মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে হেলেনার বিয়ে হয়।
এলাকাবাসী জানায়, দিনের পর দিন স্বামী-শাশুড়িসহ অন্যরা মেয়েটির ওপর নির্যাতন করে। শুধু তাই নয়, তাঁকে ঠিকমতো খেতেও দেওয়া হতো না।
স্থানীয় কয়েকজন কালের কণ্ঠকে জানান, রবিবার সকালে স্বামী, শাশুড়িসহ অন্যরা হেলেনাকে প্রচণ্ড মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে দুপুরের দিকে পুত্র রামিমকে নিয়ে সে গ্রাম থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে মহিষবেড় গ্রামের সামনের রেললাইনের পাশে অবস্থান নেয়। দুপুরের কোনো এক সময় ওই গৃহবধূ তাঁর সন্তানকে বুকে নিয়ে আন্তঃনগর এগারসিন্দুর ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

0 comments:

Post a Comment